
ফরিদপুরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা আক্তার (৩০) ও তার মেয়ে সামিয়াকে (৫) হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা ইসলাম জানান, তিন বছর আগে ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজারের একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় এবং দুজনই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় নিহত জাহানারার সঙ্গে উজ্জলের পরিচয় হয়। এ সূত্রে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ওই ভাটা এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে প্রথমে উজ্জল এবং পরে জাহানারা বাড়িতে চলে আসেন।
বাড়িতে আসার পরও তাদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক চলতে থাকে। উজ্জল জাহানারাকে প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি তাকে বিয়ে করবেন। তবে বিয়ের চাপ দেওয়া সত্ত্বেও বিয়ে না করায় জাহানারা মরিয়া হয়ে ওঠেন। গত ৪ মে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে উজ্জলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উজ্জলের পরামর্শে জাহানারা তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার ওই পুকুরপাড়ে যান। সেখানে বিয়ে করা নিয়ে উজ্জলের সঙ্গে জাহানারার তীব্র বাদানুবাদ হয়। জাহানারা হুমকি দিয়ে বলেন, সেদিনই তাকে বিয়ে না করলে তিনি উজ্জলের বাড়িতে গিয়ে উঠবেন।
এ ঘটনায় ওই দিন(৪ মে) ওই পুকুরপাড়েই রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জল ক্ষিপ্ত হয়ে জাহানারার বুকে ঘুষি মারলে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তখন উজ্জল গলা টিপে জাহানারাকে হত্যা করেন। ওই সময় তার মেয়ে চিৎকার করে উঠলে উজ্জল সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করেন। পরে তিনি মাটি খুঁড়ে গর্ত করে মা ও মেয়ের মরদেহ চাপা দিয়ে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে দেন।
উজ্জল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের কোলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকা থেকে ঘটনাস্থল আনুমানিক পাঁচশ গজ দূরে অবস্থিত। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে উজ্জলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জাহানারা বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কর্নসোনা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ শেখের স্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার নিহত জাহানারার বাবা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের নারান তেওতা গ্রামের বাসিন্দা লালন মোল্লা (৬৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাসার মোল্লা জানান, উজ্জলকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আদালতে জবানবন্দি দিতে চেয়েছেন। জবানবন্দি না দিলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের আবেদন করা হবে।

