
দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মানিক হোসেন। দীর্ঘদিন সুনামের সাথে শিক্ষকতা করছেন, সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরের কলেজ পরিদর্শক হিসেবে পেয়েছেন পদায়ন।
এরপরই একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২৬ "৮ বছর দিনাজপুর বোর্ডে থাকা আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী সুজনের ভাই এবার বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক" শিরোনামে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধ্যাপক মানিক হোসেন।
এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে সাবেক রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের আপন চাচাতো ভাই এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে দাবি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য, কাল্পনিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
তিনি জানান, ছাত্রজীবনে তিনি কখনোই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পাশাপাশি, সাবেক রেলমন্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো সম্পর্ক নেই; কেবল একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় সামাজিক পরিচয় ব্যতীত অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদ প্রকাশের আগে কোনো ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই এমন স্পর্শকাতর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার অপপ্রয়াস।
প্রতিবেদনে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষের যে দাবি করা হয়েছে, তাও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
মানিক হোসেন বলেন, দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তার পদায়ন ও যোগদানের সময় বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিদ্যালয় পরিদর্শক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার কিংবা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন লাভের অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রমাণবিহীন দাবি করে তিনি বলেন, সরকারি বিধি-বিধান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তার পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক সুপারিশ বা অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ ছিল না।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই সংবাদ মাধ্যম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করে যথাযথ সংশোধনী প্রকাশ করবে। অন্যথায় মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

