
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি-তে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে বহুল আলোচিত নাটক “এতদিন কোথায় ছিলে”। নির্মাণে ছিলেন সময়ের সংবেদনশীল ও নন্দনচেতা নির্মাতা রানা বর্তমান। প্রচারের পর থেকেই নাটকটি দর্শকমহলে আলোচনার কেন্দ্রে এর নির্মাণশৈলী, লোকেশন নির্বাচন, গল্প বলার ভঙ্গি এবং আবেগঘন উপস্থাপনার কারণে।
নাটকটি রচনা করেছেন দেলোয়ার হোসেন দিল এবং প্রযোজনা করেছেন সাহেদ চৌধুরী। অভিনয়ে ছিলেন সোহেল মন্ডল, লামিমা লাম, তারিক নেওয়াজ ও হাসি মুনসহ আরও অনেকে। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সংযত অভিনয় চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে, যেন পর্দা আর বাস্তবের দূরত্ব মুছে যায়।
গল্পের কেন্দ্রে গ্রামবাংলা—মা ও সন্তানের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, ধনী-গরিব বৈষম্যের নির্মম বাস্তবতা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষায় সঞ্চিত ভালোবাসার অনুরণন। পরিচালক রানা বর্তমান গল্পকে এগিয়ে নিয়েছেন ধীর অথচ দৃঢ় ছন্দে, যেখানে আবেগ কখনো উচ্চকিত নয়, বরং অন্তর্লীন। শেষ পর্বে একটি অপ্রত্যাশিত টুইস্ট দর্শককে নাড়িয়ে দেয় গভীরভাবে- চোখে জল আনে, আবার হৃদয়ে আশার আলোও জ্বালায়।
নাটকটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও হামিং বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক দর্শক সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন- আবহসংগীত শুধু দৃশ্যকে সঙ্গ দেয়নি, বরং আবেগকে বহুগুণে প্রসারিত করেছে। প্রচারের পর নাটকটি ইউটিউবেও মুক্তি পায় এবং প্রশংসার স্রোত অব্যাহত থাকে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়- এত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ভিউ তুলনামূলক কম কেন?
কেউ বলছেন, ডিজিটাল যুগে দর্শকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন; কেউ মনে করছেন, গ্রামবাংলার গল্পের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, যথাযথ প্রচারণার অভাব ও অ্যালগরিদমিক সীমাবদ্ধতাও একটি কারণ। তবু যারা নাটকটি দেখেছেন, তাঁদের প্রায় সকলেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গল্পনির্ভর নির্মাণই বাংলা নাটকের প্রকৃত শক্তি।
“এতদিন কোথায় ছিলে” কেবল একটি নাটক নয়- এটি শিকড়ে ফেরার আহ্বান। গ্রাম আমাদের আত্মা, আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি। সেই শিকড়কে ধারণ করেই রানা বর্তমান নির্মাণ করেছেন এক হৃদয়ছোঁয়া শিল্পকর্ম, যা প্রমাণ করে- ভালো গল্প, আন্তরিক নির্মাণ এবং মানবিক আবেগ কখনো পুরোনো হয় না।
সব মিলিয়ে, “এতদিন কোথায় ছিলে” দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্বমানের নির্মাণ কেবল বড় বাজেট বা জাঁকজমকের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে সত্যিকারের গল্প বলার সাহস ও সংবেদনশীলতার ওপর। এখন প্রয়োজন সঠিক প্রচার এবং সচেতন দর্শকপ্রবণতা—যাতে এমন নির্মাণ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং বাংলা নাটক তার মর্যাদার আসনে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমার বার্তা/এমই

