
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর ফলে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্বল তথ্যের কারণে শেয়ারবাজারেও পতন দেখা দিয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের পাল্টা হামলার ফলে বিশ্বের জ্বালানি ও পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হামলার ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম আজ ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না বলে ঘোষণা করার পর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই পথে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।
এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে একটি মার্কিন-পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণক্ষমতার অভাবে কুয়েতও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে পুনরায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে।
আমার বার্তা/এমই

