
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও তেল বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান নিজের তেল বিক্রি করতে না পারলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (২২ জুলাই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখন ‘সব অথবা কিছুই নয়’ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এবং যুদ্ধের আগের অবস্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ফিরতে দেওয়া হবে না।
তিনি লিখেছেন, “যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারছি না, সেখানে কেউ তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।”
ইরানের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ইরান হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে জাহাজে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবার একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে টানা ১২তম রাতেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সংকট নিরসনের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ “চোখের বদলে চোখ” নীতিতে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির আহভাজ, রামশির ও আন্দিমেশক শহরের আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাক সীমান্তবর্তী শালামচেহ শহরে এক হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবরও দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে, তারা ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ও পানিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থাপনা ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য জ্বালানি ও পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সামরিক কাজে ব্যবহৃত না হলে বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা সাধারণত নিষিদ্ধ।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

