
আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এখনও মাসেল পাওয়ার ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে মনে করেছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর রওনক জাহান।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপ ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনাকালে রওনক জাহান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দিচ্ছে, সেখানে আগের প্রক্রিয়া থেকে কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে কিনা? গত এক বছরে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছে। এখনো মাসেল পাওয়ার ও ব্যবসায়ী ভিত্তিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলেই মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কীভাবে মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে? সেটা বড় বিষয়। যারাই নির্বাচিত হয়ে আসবে, তাদের এ বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে চাই। যারা সংসদে আসবেন তাদের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ। তবে এলাকার উন্নয়নে তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। এটাই বাস্তবতা। মানুষ যথেষ্ট অসহিষ্ণু হয়ে গেছে। সময় আছে এক মাসের কম। অথচ এখনো নির্বাচনী ইশতেহার দেখলাম না। ছাত্র-জনতা অনেক ভয়েস রেইস করছে। নির্বাচনে জনসাধারণ তাদের মতামত দেবে। আগামীতে নাগরিক সম্প্রদায় নির্ভয়ে কাজ করতে পারবে কিনা সেটা বড় চ্যালেঞ্জ।
নাগরিক প্ল্যাটফর্ম দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ৮টি আঞ্চলিক পরামর্শ সভা এবং ১৫টি যুব কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে ৩৫টি জেলার প্রায় ১৫০০ জন স্থানীয় অংশীজন ও তরুণদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করে। পাশাপাশি মন্তব্য বাক্স ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত আহরণ করে। এ প্রক্রিয়ায় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের জাতীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের ১৫০টিরও বেশি সহযোগী সংগঠন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ-ভিত্তিক আশা-আকাঙ্ক্ষা শোনার ও নথিভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবন্ধে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, নাগরিক সমাজ আজ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও পরিপক্ব ও সচেতন। এই দেশের মানুষের ভাবনার বৈচিত্র্য যেমন আমাদের শক্তি, মর্যাদা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাই আমাদের সম্মিলিত পথনির্দেশক। লক্ষ্য একটাই-বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন নির্বাচনী প্রচারের ডামাডোলে হারিয়ে না যায় এবং তরুণ, নারী, কৃষক, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক ও বিশস্ত্র জনগণ যেন আগামীর রাষ্ট্রগঠনে সমান অংশীদার হতে পারে।
আমার বার্তা/জেএইচ

