ই-পেপার সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আজহার আলী সরকারের জন্য শোকগাথা

আমার বার্তা অনলাইন:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪

একজন সাংবাদিক, রাজনীতির অন্দরমহলের অসংখ্য গোপন খবরের সাক্ষী এবং এক অসমাপ্ত জীবনের করুণ উপাখ্যান

আজহার আলী সরকার আর দুনিয়াতে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর জীবনের সব ভুলত্রুটি মার্জনা করুন এবং তাঁকে জান্নাত নসিব করুন। তাঁর ছোট ছোট সন্তানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমার গভীর সমবেদনা।

আজহার আলী সরকার ছিলেন একজন সাংবাদিক। মূলত ‘আমাদের সময়’ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর উত্থান। একটা সময় ছিল, যখন আজহার মানেই ছিল উত্তরপাড়ার খবর। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে যেসব তথ্য পেতেন, সেগুলোই আজহার পত্রিকায় পরিবেশন করতেন। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরমহলের এমন অনেক খবর তাঁর কাছে থাকত, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না।

আজ তাঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অপ্রকাশিত অধ্যায়েরও যেন পরিসমাপ্তি ঘটল। তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হয়েছে। সেই কথোপকথন, তাঁর কাছ থেকে শোনা নানা ঘটনা, আমার নিজের অভিজ্ঞতা এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর দুর্দশার কথা মিলিয়ে আজ কিছু লিখতে বসেছি।

১. আমাদের সময়, দেড় হাজার লোকের তালিকা এবং আমার নাম

এমনিতেই আমি সাংবাদিকদের প্রতি কিছুটা বিমুখ। তার পেছনে একটি পুরোনো ঘটনা রয়েছে।

২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে, ৩ সেপ্টেম্বর, ‘আমাদের সময়’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ক্ষমতা ছাড়ার পর বিএনপি সরকারের দেড় হাজার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। সেই তালিকায় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ছিল। আশ্চর্যের বিষয়, সেই তালিকার মধ্যে আমার নামটিও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সকালে অফিসে এসে পত্রিকাটি পড়ে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার এডিটরকে টেলিফোন করলাম।

বললাম, ‘ভাই, আমার টিকিট কোথায়? আর আমি কোন দেশে যাব, একটু বলেন।’

তিনি কিছুটা বিব্রত হলেন। আমি বললাম, ‘রিপোর্ট যখন করেছেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি জানেন, আমার ভবিষ্যৎ কী বা কী হতে যাচ্ছে।’

তিনি জানালেন, আজহার লিখেছে, কিন্তু আজহার এখন ছুটিতে আছে।

তখন কেউ একজন বললেন, জেনারেল মাহবুব সাহেব হয়তো আজহারকে চেনেন। তিনি তাঁর এলাকার লোক।

আমি জেনারেল মাহবুব সাহেবকে ফোন করলাম। তিনি অস্বীকার করলেন। বললেন, তিনি আজহারকে চেনেনই না।

সেই ঘটনার পর আজহার আলী সরকার সম্পর্কে আমার আগ্রহ সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পরিচয়ও ছিল না।

কিন্তু মানুষের জীবনে অনেক অপ্রত্যাশিত অধ্যায় থাকে। বহু বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনে সেই আজহারই একদিন আমাকে ফোন করেছিলেন।

২. নির্বাসনে ফোন, ওয়ান-ইলেভেনের অপ্রকাশিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনকালে আজহার সরকার একবার কেন যেন আমাকে ফোন করেছিলেন। তখন আমি তাঁর কাছে সেই পুরোনো ঘটনার কথা জানতে চাইলাম। বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করা দেড় হাজার ক্ষমতাবান ব্যক্তি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন—এমন খবর তিনি কীভাবে পেয়েছিলেন?

আজহার আমাকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী অর্থাৎ এসএসএফের দুজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, যাঁরা গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন, তাঁরা তাঁকে ওই তথ্য দিয়েছিলেন। শুধু তথ্যই নয়, কারা কারা পালিয়ে যাবেন, সেই তালিকাও তাঁরা দিয়েছিলেন।

আজহারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জানতেন যে ওয়ান-ইলেভেন আসছে। তখন কারা কারা হয়রানির শিকার হবেন, কাদের কী পরিণতি হতে পারে, সে সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়েছিল।

এমনকি জেনারেল মইন ক্ষমতা নেবেন এবং দেশের প্রেসিডেন্ট হবেন—এমন আগাম তথ্যও তাঁর কাছে ছিল বলে তিনি আমাকে জানান। সেই বিষয়ে তিনি সংবাদও প্রকাশ করেছিলেন।

জেনারেল মাহবুব যদিও আমাকে আজহারকে চেনার কথা অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে আজহারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে তিনিই জানিয়েছেন।

ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার অনেক গোপন খবর আজহার আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। সেসবের অনেক কিছুই এখনো অপ্রকাশিত। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে আজহারের গুরুত্ব এখানেই। তিনি শুধু সংবাদ পরিবেশন করতেন না; বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক অজানা ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী ছিলেন।

৩. খালেদা জিয়াকে ‘পুতুল আপা’ এবং আজহারের রাজনৈতিক পরিচয়

আজহার আলী সরকারের বাড়ি দিনাজপুরে। তাঁর এক ভাই আমাদের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে চাকরি থেকে বের হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মারাও যান।

রাজনৈতিকভাবে আজহার ছিলেন বিএনপির মানুষ। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের অন্যতম বিরোধী ছিলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম ভক্ত ছিলেন আজহার। তিনি খালেদা জিয়াকে ‘পুতুল আপা’ বলে ডাকতেন।

ম্যাডাম নিজেও দিনাজপুরের মানুষ। ম্যাডামের আম্মার সঙ্গেও আজহারের ব্যাপক সখ্যতা ছিল।

আজহারের রাজনৈতিক পরিচয়, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনীতির অন্দরমহলে তাঁর দীর্ঘদিনের বিচরণ—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর কাছে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের হাঁড়ির খবর ছিল সীমাহীন।

৪. ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা, রাজনীতির অন্দরমহলের খবর

আজহার আলী সরকার রাজনীতির খবর জানতেন অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতেন। রাজনীতির অন্দরমহলের খবর, বাইরের খবর, ভেতরের খবর, সামনের খবর, পেছনের খবর—এরপর কী ঘটবে, কী ঘটতে পারে—এক কথায় সবকিছুই বলতেন।

এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, এমনকি তিন ঘণ্টা টানা কথা বলার রেকর্ডও আছে।

এমনও হয়েছে, আমি হয়তো ফোনে একটি-দুটি কথা বলেছি, কিন্তু আজহার ১৫-২০ মিনিট একটানা কথা বলে গেছেন।

মোটামুটি ঢাকার রাজনীতির অন্দরমহলের সব খবর আপ টু ডেট থাকত তাঁর কাছে। হঠাৎ কোনো ঘটনা ঘটলে কিংবা কোথাও কোনো আওয়াজ পাওয়া গেলে, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে কেউ কোনো কিছু প্রকাশ করলেও, তার আসল খবর জানা যেত আজহারের কাছে।

শুধু তা-ই নয়, বাড়তি কিছু তথ্যও পাওয়া যেত। কোথায় কে কী করছেন, কার সঙ্গে কার যোগাযোগ, পর্দার আড়ালে কী ঘটছে—এসব বলতে তিনি দেরি করতেন না।

আজহার প্রায় সারা রাত ঘুমাতেন না। রাজনীতির খবরাখবর নিয়েই যেন তাঁর জীবন চলত।

শেষের দিকে প্রায় ১০ বছর বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া দেখেছেন। অর্থাৎ শাহ আলমের পিআরও হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে শেখ হাসিনার অত্যাচারের কারণে সেই চাকরিটিও চলে যায় ।

এরপর শুরু হয় তাঁর কষ্টের জীবন।

৩৬ জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে একদিন সচিবালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। সেটিই ছিল আমাদের প্রথম ও শেষ সামনাসামনি দেখা। অথচ এর আগে কত ঘণ্টা যে ফোনে কথা হয়েছে!

তারপর আর তেমন যোগাযোগ ছিল না। দুঃসময়ে যোগাযোগ থাকে, সময়ের অবসানে আর খবর থাকে না। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যোগাযোগটা কেমন যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

আজ মনে হচ্ছে, জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে আরেকবার কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু মানুষের জীবনে অনেক কথাই অসমাপ্ত থেকে যায়।

৫. গ্রেফতার, এনায়েত করিমের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং কারাগারের দুর্দশা

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শেষের দিকে, অক্টোবর মাসে, আজহার আলী সরকারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এর আগে ফ্যাসিস্ট আমলে গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে বহুবার তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ভয়ভীতি দেখিয়েছিল। কিন্তু এবারের ঘটনাটি ছিল ভিন্ন।

পত্রিকায় প্রকাশ, এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, অধ্যাপক ইউনূসকে সরিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসানোর একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সময়ে মিলিয়ে আজহার আলী প্রায় ১০ মাস জেলখানায় ছিলেন।

যতটুকু জানা গেছে এবং পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ফেলিওর ও লিভার সিরোসিসসহ শারীরিক নানা জটিলতায় তিনি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কারাগারে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল।

কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার খবরও জানতাম না, কিন্তু আজ একজন ফোন করে জানালেন, আজহার আলী সরকার আর নেই। প্রমান হলো, মৃত্যুর খবর বাতাসের আগে পৌঁছায়!

আই অ্যাম টোটালি স্পিচলেস!

একজন মানুষ, যিনি বাংলাদেশের রাজনীতির অসংখ্য অপ্রকাশিত ঘটনার সাক্ষী ছিলেন, যাঁর কাছে কত মানুষের কত গোপন খবর ছিল, সেই মানুষটির শেষ পরিণতি হলো এভাবে!

৬. এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম: বাংলাদেশের রাজনীতির এক রহস্যময় অধ্যায়

কথা যখন উঠেছে আজহার আলীর সাথে মাসুদ করিম বা এনায়েত করিমের যোগাযোগের, তখন প্রসঙ্গটি একটু বিস্তারিত বলা দরকার। আমার পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাসুদ করিম নামে এই ব্যক্তির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত এবং বহু মানুষের জন্য পরিণত হয়েছিল বিপদের কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কাজ করতো সিআইএর লোক হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক আমেরিকান সিটিজেনের নাম শোনা যেত, তাঁর নাম এনায়েত করিম। আরেক নাম মাসুদ করিম। সম্ভবত তাঁর বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। বসবাস নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে।

একসময় তিনি সিআইএর একটি প্রকল্পে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। আফগানিস্তানে তাঁর পোস্টিং ছিল। সেখানে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন, জেলও খেটেছিলেন বলে একটি পেপারে দেখেছি।

সিআইএর সঙ্গে তাঁর সাবেক যোগাযোগকে ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে নিজেকে জড়িয়ে ব্যবসা পেতে বসেন। মোটামুটি ২০১০-১১ সালের দিকে তিনি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করেন। রাজনীতির অন্দরমহল থেকে ওপর মহল—সবখানেই তাঁর চলাফেরা শুরু হয়।

যাঁরা রাজনীতি করেন, ক্ষমতায় যেতে চান কিংবা ক্ষমতায় থাকতে চান, তাঁদের অনেকেই মাসুদ করিমকে চিনতেন, জানতেন। অনেকে তাঁকে গুরুত্ব দিতেন, ব্যবহারও করেছেন। শেখ হাসিনার সরকারও তাঁকে ব্যবহার করেছে।

অনেকে তাঁকে রাজনীতির রহস্যপুরুষ হিসেবে জানতেন।

শেখ হাসিনার আমলে তিনি ব্যাংককভিত্তিক একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করেন, যেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁদের ব্যাংককে ডেকে নিতেন, অনেককে বিমানের টিকিট দিতেন, হোটেলের ব্যবস্থা করতেন এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন।

আমার ভাষায়, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দালালি করতেন।

আমাদের দেশের যেসব রাজনীতিকের ঈমান কম, তাঁদের অনেকেই এই লোকটির পেছনে ছুটতেন। তাদের মধ্যে কে ব্যাংককে যাননি, সেটাই বরং প্রশ্ন! বেশ কিছু লোকের সঙ্গে কথা বলে আমি বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এই লোকটি বাংলাদেশের জন্য একটা বিপদ। আমার কাছে মনে হয়েছে, মাসুদ করিম বা এনায়েত করিম ছিলেন আসলে একটি ট্র্যাপ। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বা আছে এই অজুহাতে অনেকেই এমন জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার পরিণতি তাঁরা নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারেননি।

এনায়েত করিমের এসব অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করে আমি তিন-চারটি বড় পোস্ট দিয়েছিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যেন এই লোকটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকেন।

সর্বশেষ, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সরকার পরিবর্তনের এজেন্ডা নিয়ে এনায়েত করিম ঢাকায় আসেন বলে প্রকাশ। তিনি বেশ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও করেন। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হন। তখন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়, সরকার পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁদের পরিকল্পনার কথা যা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে প্রকাশ। এনায়েত করিমের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগের কারণেই ড. ইউনূসের সরকার আজহারকে গ্রেফতার করেছিল বলে মামলা ও পত্রিকায় বলা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, জেলখানায় আজহার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অনেক চেষ্টা করে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুনিয়ার জীবন থেকেও তাঁকে মুক্তি দিল মৃত্যু।

৭. এনায়েত করিমের সঙ্গে যোগাযোগের পরিণতি: কত মানুষের কত ক্ষতি!

অন্যদিকে, এনায়েত করিমের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বহু মানুষের ভাগ্যপতন ঘটেছে। অনেকের বিশাল বিশাল ক্ষতি হয়েছে। অনেকে এখনো বিপদে আছেন।

এই দুর্বৃত্ত কত মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করেছে, তা হয়তো সে নিজেও জানে না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি যোগাযোগ, ক্ষমতার আশ্বাস, গোপন বৈঠক এবং নানা ধরনের প্রলোভন নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন এসব যোগাযোগের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য অস্পষ্ট থাকে, তখন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজেরাই বিপদের মধ্যে পড়েন। এনায়েত করিমের ঘটনায় সেই বাস্তবতাই আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।

আজহার আলী সরকারের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত আজহারের জীবনে কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছিল, তা আজ আর অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে আজহার কী জানতেন, কী করতেন, কিংবা কোন পর্যায়ে কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল—এসবের পূর্ণাঙ্গ সত্য হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না। তাঁর সঙ্গে চলে গেল অনেক অপ্রকাশিত তথ্য, অনেক অজানা ঘটনা, অনেক গোপন অধ্যায়।

৮. আজহার চলে গেলেন, কিন্তু হিসাব বাকি রইল

রক্তমাংসের আজহার আলী সরকার দুনিয়ার পাঠ চুকিয়ে অজানার পানে পাড়ি দিয়েছেন।

যে মানুষটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতেন, বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরমহলের কত অজানা খবর জানাতেন, কত ঘটনার আগাম আভাস দিতেন, সেই মানুষটির কণ্ঠস্বর আর শোনা যাবে না।

যাঁরা আজহারের কাছে নানাভাবে দায়বদ্ধ, যাঁরা তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, কিংবা তাঁর দুঃসময়ে যা করা দরকার ছিল কিন্তু করেননি—তাঁরা এখন নিজেদের হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারেন।

একসময় যাঁদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাঁদের অনেকেই হয়তো আজ তাঁর মৃত্যুসংবাদে নীরব থাকবেন। কিন্তু জীবনের হিসাব তো শুধু দুনিয়ার মানুষের কাছে নয়, মহান আল্লাহর কাছেও দিতে হবে। তবে আমার সার্ভিসের না হলেও পরিচয় থাকলে মৃত্যুর পরে কারো সম্পর্কে শোকগাথা লিখতে দেরি করি না।

আজহার আলী সরকারের জীবনের অনেক অধ্যায় অজানা। অনেক অভিযোগের সত্যতা হয়তো কোনো দিনই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না। কিন্তু তাঁর শেষ জীবনের কষ্ট, কারাবাস, অসুস্থতা এবং অকালমৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

একজন মানুষ চলে গেলেন। তাঁর সঙ্গে চলে গেল বাংলাদেশের রাজনীতির বহু অপ্রকাশিত ইতিহাস।

আজহার, আপনি যেখানেই থাকুন, মহান আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনার ছোট ছোট সন্তানদের হেফাজত করুন। আপনার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন।

দুনিয়ার পাঠ সবারই একদিন চুকবে। কারও আগে, কারও পরে। শেষ পর্যন্ত সবারই হিসাব দিতে হবে।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দরজা খুলছে, এখন জট খোলার পালা

সোমবারের সকালটা আজ বেশ আশাবাদী মুখ করে এসেছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে চীনের

নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায়: বড় অর্জন, ছোট ছোট প্রশ্ন

পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় ফিরেছেন।

বিশ্বমঞ্চের ভাষণ, মেঘনার কান্না: শনিবারের বাংলাদেশ কোন খবর মনে রাখবে?

শনিবার—অর্থাৎ ঘড়ির অ্যালার্মকে একটু সন্দেহ করার দিন, আর সকালের চায়ের কাপটিকে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়ার

রোহিঙ্গা সংকট থেকে রাষ্ট্রের জবাবদিহি—ন্যায়ের প্রশ্নে বাংলাদেশ

সুপ্রভাত। জুমার সকাল মানুষের মনে অন্য রকম একটি নীরবতা এনে দেয়—যেন কোলাহলের ভেতরেও নিজেকে একটু
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সচেতনতা ও প্রতিরোধে কমবে জলাতঙ্কে মৃত্যু: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.২৫ টন তামাকসদৃশ পণ্য ও ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

দরজা খুলছে, এখন জট খোলার পালা

যুক্তরাষ্ট্রে নর-ইস্টার ঝড়ে বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক গ্রাহক, বাতিল ৫ শতাধিক ফ্লাইট

চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে মেয়াদ শেষের আগেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

জলমহল দখলের চেষ্টা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ইটনায় মানববন্ধন

আজহার আলী সরকারের জন্য শোকগাথা

সেবক সংগঠন কর্তৃক জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম

ছোটকাকু সিরিজের ১৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ

লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

কুমিল্লার ১৮ থানায় রাতভর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৪১৫

ছাত্রদল নেতা জিসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, লাশ মিলল সড়কে

দুই ডজন মামলার আসামি, ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী থেকে ভূমিদস্যু নাজিমুদ্দিন