
শেখ হাসিনা আবারো যদি ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবনটা কালো করে ছাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বিরোধী দলের উদ্দেশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, এই সরকারের ৪ মাস।
বিরোধী দল বলে যে, আরেকটি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হন, বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হন। আমি ওনাদের বলতে চাই, আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন।
আপনাদের অনৈক্যের কারণে আবারো যদি দানব হাসিনা... আল্লাহ না করুক! আল্লাহ না করুক! আল্লাহ না করুক! আবারো যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, জীবনটা কালো করে ছাড়বে!
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে একটা আয়নাঘর দেখলাম, সে আয়নাঘরে একটা চেয়ার দেখলাম। সেখানে, সেই চেয়ারে বিরোধী দলের নেতাদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো।
আমার দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ওই চেয়ারে বসাইয়া, শোয়াইয়া শেখ হাসিনাকে ইলেকট্রিক শক দিতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে এই সংসদ সদস্য বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে বাজার করি, আমি স্বস্তিতে আছি, এদেশের মানুষও স্বস্তিতে আছে। কিন্তু একটি কথা আছে, ব্যবসায়ীরা একবার দাম বাড়ালে এই দাম আর কমাতে চায় না। আজ ভোক্তাদের কাছে এই সুযোগ যদি দেওয়া হয়, তাহলে এই বাজারকে জোর মনিটরিং করার আমি দাবি জানাচ্ছি, যাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষরা এই সুযোগটা পায়।
ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারীদের শাস্তি দাবি করে সরকারদলীয় এই এমপি বলেন, ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকের হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব এবং সঞ্চয়পত্রের ১০% কর কাটার যে প্রস্তাব, এই প্রস্তাব আমি প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। কয়েকটি ব্যাংকের মালিক, ব্যাংক লুটেরা, ব্যাংক খেকো, ব্যাংক ডাকাত কয়েকটি ব্যাংক গিলে খেয়ে ফেলেছে। তারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, লুট করে তারা বিদেশে আরামে-আয়েশে জীবনযাপন করছে। আজকে গ্রাহকরা চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে পারছে না, যেই সমস্ত লুটেরারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই, ক্ষমা হতে পারে না। তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা গ্রাহকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি মাননীয় স্পিকার!
রানু বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ের আন্দোলনে আমাদের ফেনীর ১১ জন জীবন দিয়েছে। তাদের পরিবার আমি এমপি হবার পর আমার সাথে এসে দেখা করে। তারা পুলিশ প্রশাসন এবং আদালতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, পুলিশ প্রশাসন আসামিদের ধরছে না, আবার ধরলেও আদালত তাদের জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা আমাকে বলেছে, আমরা আপনাদের কাছে কিছু চাই না, আমরা শুধু আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই। আপনি সংসদে এই কথাটি একটু ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আছেন। সরকারি হাসপাতালের নার্সরা রোগীদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে, এ ব্যাপারে আমি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে। সেখানে অনেক জায়গা খালি পড়ে আছে, সেখানে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আমি দাবি জানাচ্ছি। ফেনীতে লালপোল ফ্লাইওভারের দাবি জানাচ্ছি। ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন গ্যাস বন্ধ রয়েছে, গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এলপিজি সিলিন্ডারের অনেক দাম, এই দাম কমানোর প্রস্তাব করছি। আমাদের ফেনীর নারী, মা-বোনেরা একটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমি সেখানে শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড চালুর দাবি জানাচ্ছি, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমার বার্তা/এমই

