
মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তাঁর চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ৭৩ রানে দশ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অভিষেক হবে। তবে অভিষেক হয়েছে চার পাকিস্তানি ক্রিকেটার। সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, আবদুল সামাদ—অভিষিক্ত এই চার ক্রিকেটারের মধ্যে শুধু ফারহানের পাকিস্তানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। আজ ফারহান-সাদাকাত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন।
ধীরস্থির গতিতে এগোতে থাকা পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে ধসের সূচনা করেন নাহিদ রানা। দশম ওভারের শেষ বলে রানার অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে কাট করতে যান ফারহান। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।৩৮ বলে ৪ চারে ফারহান করেছেন ২৭ রান।
দলীয় ৪৪ রানেই পাকিস্তান হারাতে পারত দ্বিতীয় উইকেট। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজকে তুলে মারতে যান শামাইল। বল যখন আকাশে তখন লং অফ থেকে দৌড়ে আসছিলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং তাওহীদ হৃদয় লং অন থেকে দৌড়ে আসছিলেন। তবে কেউই ক্যাচ ধরতে পারেননি। যদিও ২ রানে জীবন পাওয়া শামাইল আউট হয়েছেন ৪ রানে। রানার শর্ট পিচ বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন শামাইল।
ফারহান-শামাইলের পর শর্ট বলে রানা ঘায়েল করেছেন মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাকেও। যেখানে সালমানের উইকেটে রানার চেয়ে অবদান বেশি তানজিদ হাসান তামিমের। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রানাকে পুল করতে যান সালমান। শর্ট লেগে কয়েকবারের চেষ্টায় বল তালুবন্দী করেন তানজিদ তামিম।
রানার শর্ট বলে ঘায়েল হওয়া পাকিস্তান এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ও তাসকিন আহমেদের পেসে মুখ থুবড়ে পড়ে। আবদুল সামাদ, হুসেইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়েছেন। যেখানে ১৯তম ওভারের শেষ বলে সামাদকে কট বিহাইন্ড করেন মিরাজ। সামাদ রিভিউ নিলে দেখা যায়, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে গেছে লিটনের গ্লাভসে। শূন্য রানে আউট হওয়ার পাশাপাশি একটা রিভিউও নষ্ট করে গেছেন সামাদ।
আমার বার্তা/এমই

