
আতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে মেত্রোপলিতানোতে শেষবারের মতো খেললেন আঁতোয়ান গ্রিজমান। বিদায়ী ম্যাচে দলের জয়ে অবদান রাখার পর সমর্থকদের সামনে আবেগঘন বক্তৃতায় আবারও ক্ষমা চাইলেন বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য।
রোববার লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পায় আতলেতিকো। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন আদেমোলা লুকমান, যাকে বলের জোগান দেন গ্রিজমান।
ঘরের মাঠে আতলেতিকোর খেলোয়াড় হিসেবে শেষ ম্যাচে তাই মাঠের পারফরম্যান্সেও ছাপ রেখে গেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। আতলেতিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্রিজমানের বয়স এখন ৩৫।
দুই দফায় ক্লাবটির হয়ে ১০ বছরের পথচলার পর আগামী গ্রীষ্মে তিনি যোগ দেবেন মেজর লিগ সকারের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটিতে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে আতলেতিকোর সঙ্গে তার দীর্ঘ অধ্যায়। জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলেন গ্রিজমান। শুরুতেই তিনি ধন্যবাদ জানান উপস্থিত দর্শকদের। এরপর ২০১৯ সালে বার্সেলোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আবারও ক্ষমা চান তিনি।
গ্রিজমান বলেন, ‘প্রথমত, সবাই থাকার জন্য ধন্যবাদ। এটা অসাধারণ। দ্বিতীয়ত, এবং এটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ…আমি জানি অনেকেই ক্ষমা করেছেন, কেউ কেউ এখনো করেননি। তবে আমি আবারও আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। এখানে আমার প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, সেটা তখন বুঝতে পারিনি। আমি খুব তরুণ ছিলাম। বার্সেলোনায় যাওয়া ভুল ছিল। পরে আমি বিষয়টি বুঝেছি এবং আবার ফিরে এসে এখানে উপভোগ করার জন্য আমরা সবকিছু করেছি।’
২০১৪ সালে রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে আতলেতিকোতে যোগ দিয়েছিলেন গ্রিজমান। এরপর ২০১৯ সালে বার্সেলোনায় যান তিনি। তবে কাতালান ক্লাবে প্রত্যাশিতভাবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারায় পরে আবার আতলেতিকোতে ফেরেন এই ফরাসি তারকা। দ্বিতীয় দফায়ও ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান গ্রিজমান। আর্জেন্টাইন কোচের অধীনেই ক্লাব ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটিয়েছেন তিনি।
গ্রিজমান বলেন, ‘কোচিং স্টাফ এবং এই ক্লাবের সবকিছু বদলে দেওয়া মানুষ ডন দিয়েগো পাবলো সিমিওনেকে ধন্যবাদ। আপনার কারণেই এখানে অনেক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং নিজেকে বিশ্বের সেরা মনে করেছি। আপনার কাছে আমার অনেক ঋণ। আপনার জন্য লড়াই করা সম্মানের।’
আতলেতিকো অধিনায়ক কোকেও আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানান গ্রিজমান। ক্লাবের কিংবদন্তি হিসেবে কোকের মর্যাদার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি জানি না আমি কিংবদন্তি কি না, তবে তুমি, কোকো, এই ক্লাবের কিংবদন্তি।’
পরিবারের কথাও ভুলে যাননি গ্রিজমান। কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। গ্রিজমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী, আমার স্ত্রীকেও ধন্যবাদ। খারাপ দিনগুলোতে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এবং হারের পর আমার রাগ সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
নিজের ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথাও স্মরণ করেন গ্রিজমান। ছোটবেলায় খেলার জন্য ফ্রান্সের নানা প্রান্তে তাকে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। গ্রিজমান বলেন, ‘আমার বাবা-মাকেও ধন্যবাদ, যারা আমাকে খেলানোর জন্য পুরো ফ্রান্সে নিয়ে গেছেন। তাদের কারণেই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে ফুটবল উপভোগ করছি।’
আতলেতিকোর হয়ে লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে না পারার আক্ষেপও আছে গ্রিজমানের। তবে সমর্থকদের ভালোবাসাকে তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিতে পারিনি, কিন্তু এই ভালোবাসা আমার কাছে তার চেয়েও বড়। পুরো যাত্রায় এটা সঙ্গে নিয়ে যাব।’
শেষে আতলেতিকো পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ জানান গ্রিজমান। সমর্থকদের সন্তানদের ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা শেখানোর জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। গ্রিজমান বলেন, ‘এখন আমার শেষ। বাবা, মা, চাচা, চাচি এবং শিশুদের এখানে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। তাদের শেখানোর জন্য যে আতলেতিই বিশ্বের সেরা। ধন্যবাদ।’
আমার বার্তা/এমই

