
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে সেটা আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে টেবিলের সাত নম্বরে ছিল তারা। আর চলমান চক্রে তারা উঠে গেছে পাঁচ নম্বরে, পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ সিরিজ জয়ের পর এই সাফল্য মিলেছে।
নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, এবারের চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র ৫ নম্বরে থেকে শেষ করতে চায় তার দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দাপটের সঙ্গে জিতেছিল তারা। ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলাররা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে স্পোর্টিং উইকেটে পেসারদের সঙ্গে দাপট দেখান স্পিনাররাও। এরপর সদ্য সমাপ্ত সিলেট টেস্টেও দাপট দেখালেন বোলাররা। বিশেষ করে স্পিনার তাইজুল ইসলামের কথা আলাদা করে বলতে হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। এদিকে দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে রান করেছেন লিটন দাস। এছাড়া মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ছিল অভিজ্ঞতার বিচারে অন্যতম সেরা এবং অতি জরুরি।
বাংলাদেশের এমন জয় হাজার মাইল দূর থেকে দেখেছেন সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপে তিনি বলছিলেন, ‘ইতিহাস পূর্ণ হলো, কারণ বাংলাদেশ পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে এবং এখন নিজেদের মাটিতে হারিয়েছে, যা একটি বিশাল এবং স্মরণীয় অর্জন। দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ।’
এই জয় ডোনাল্ডকে গর্বিত করেছে, ‘এটি একটি দারুণ দলীয় সিরিজ জয় ছিল এবং প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করেছে। এই দুটি টেস্ট ম্যাচে বোলিং ইউনিট অসাধারণ খেলেছে এবং তারা এমন একটি দলের মতো খেলেছে, মনে হয়েছে অনেক পরিপক্ক এবং পুরো আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের কাজটা করছে।’
বাংলাদেশের ভয়-ডরহীন পারফরম্যান্স নিয়ে ‘হোয়াইট লাইটনিং’ খ্যাত ডোনাল্ড বললেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কয়েক বছর আগে আমরা বলেছিলাম যে আমাদের হারের ভয় কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, কোনো পিছপা হওয়া চলবে না। এই দলটি এখন ঠিক সেটাই করছে—তারা এগিয়ে এসে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তাদের একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়েছে এবং মানুষ তাদের নিয়ে কথা বলছে, যা আমাকে অত্যন্ত গর্বিত করে।’
ডোনাল্ড জানিয়েছেন, ভুল করাটা অপরাধ না, ‘বাংলাদেশে অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে, কিন্তু মানুষের একটি কথা তাদের পিছিয়ে রাখছে, কথাটা এমন যে—তারা কোনো ভুল করতে পারবে না। কোচিংয়ের আসল শিল্পই হলো সম্পর্ক, বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা; ফলাফল তখনই আসবে যখন একজন খেলোয়াড় জানবে যে তার স্বাধীনভাবে খেলার লাইসেন্স আছে এবং ভুল করাটা কোনো অপরাধ নয়।’
পরে বাংলাদেশ দলে নিজের কোচিংয়ের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা খুবই নির্মম এবং প্রতিটি মানুষের গঠন ভিন্ন, তাই আমার কাছে মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রতিটি বোলারকে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার কাজ ছিল দলের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক তৈরি না করা।’
তার আরও কথা, ‘আমাদের সবারই নিজ নিজ ভূমিকা সম্পর্কে খুব পরিষ্কার ধারণা ছিল, তবে আমাদের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং দলগত মানসিকতা (প্যাক মেন্টালিটি) ছিল যা এখন সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সবাই তা বোঝে। আমি ছেলেদের শুভকামনা জানাই, তারা পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে হারিয়ে এবং এখন নিজেদের মাটিতে হারিয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্ত ছুঁয়েছে, যা সত্যিই দারুণ মধুর।’
এদিকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বাংলাদেশের আধিপত্য নিয়ে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! বিগত ৬টি মাস আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ২২ গজে আধিপত্য করছে, তা এক কথায় অনবদ্য।’
তিনি বললেন, ‘গেল বছর আয়ারল্যান্ড আর এ বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ৪টি টেস্ট ম্যাচে এসেছে ৭টি সেঞ্চুরি আর ১৪টি ফিফটি! যার মধ্যে মুমিনুলের টানা ৫ ইনিংসে ৫টি ফিফটির অবিশ্বাস্য এক ধারাবাহিকতার ছাপ ছিল।’
এই দলের সঙ্গে কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের বললেন সাবেক অধিনায়ক, ‘২২ গজে রানের এই উৎসব আর দলের এমন রূপান্তরের দিনে এই টিমটার সঙ্গে পেছনের মঞ্চ থেকে কাজ করতে পারা, এই দারুণ যাত্রার একটা অংশ হতে পারা সত্যিই ভীষণ ভাগ্যের ব্যাপার। টিমের এই দুর্দান্ত ফর্মে নিজেকে আজ সত্যিই একজন ভাগ্যবান মানুষ মনে হচ্ছে।’
আমার বার্তা/এমই

