
ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সজল ওরফে ‘অটো সজল’কে (৩১) তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র থানা থেকে লুট হওয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন- মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) ও মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এণ্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন।
পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুটি ‘TAURUS’ ব্র্যান্ডের পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন এবং ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন এবং হেরোইন প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম মেডি, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ নগদ টাকাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো থানা থেকে পুলিশের লুট যাওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় এর আগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে এই অটো সজলের নাম উঠে আসে। পরে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম আরও বলেন, অটো সজল দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। সজল পেশায় একটি পরিবহনের হেলপার হলেও আড়ালে তিনি এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এ কর্মকর্তা।
এসময় ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

