
ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আশিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতা আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত মিশনপ্রধানরা এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আশিয়ানের প্রায় ছয় দশকের অর্জন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার অভিন্ন প্রত্যয় তুলে ধরা হয়।
প্রতিবছর ৮ আগস্ট আশিয়ান দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট ব্যাংককে পাঁচটি দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড আশিয়ান প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এই দীর্ঘ সময়ে আসিয়ানের সদস্য দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১১টি হয়েছে। এবং এটি শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ই নয় সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসিয়ানের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেভিগেটিং আওয়ার ফিউচার, টুগেদার’। আঞ্চলিক যোগাযোগের স্থিতিস্থাপকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এ প্রতিপাদ্যে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক কোরের ডিন, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং তারপর আসিয়ান সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন আশিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা উথমান। এরপর ২০২৬ সালে আশিয়ানের সভাপতিত্বকারী দেশ ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেট আশিয়ান দিবস উপলক্ষে বক্তব্য দেন। সবশেষে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে আশিয়ান ঢাকা কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ফিলিপাইনের আশিয়ান সভাপতিত্বের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আরেকটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
প্রায় ছয় দশক ধরে আশিয়ান আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করে চলেছে সংগঠনটি।

