
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট এলাকার সড়কঘেঁষা জমিতে গড়ে ওঠা এই আঙুর বাগান প্রতিদিনই আকর্ষণ করছে নানা বয়সী দর্শনার্থীদের। অনেকে বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউবা গাছ থেকে তাজা আঙুরের স্বাদ নিচ্ছেন। আবার অনেকেই সরাসরি বাগান থেকেই আঙুর কিনে বাড়ি ফিরছেন।
কামরুজ্জামানের কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি সহজ ছিল না। কয়েক বছর আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে মানসম্মত চারা সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিকবার প্রতারণার শিকার হন এবং আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়। কিন্তু ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং নতুন উদ্যমে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে দেশের মাটিতেও সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব।
বর্তমানে তাঁর মালিকানায় প্রায় দেড় একর জমিজুড়ে তিনটি পৃথক আঙুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদিত আঙুর স্থানীয় বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তাঁর বার্ষিক আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, চাঁদপুরে এ ধরনের উদ্যোগ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে বাগানটি কৃষিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাগান পরিদর্শন করে আঙুর চাষের খুঁটিনাটি বিষয়ে ধারণা নিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, জেলার মাটি ও পরিবেশ আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। তবে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন আরও বিস্তৃত জমি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ। এসব বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কামরুজ্জামান মনে করেন, চাকরির পেছনে ছুটে হতাশ হওয়ার পরিবর্তে তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাঁর বিশ্বাস, পরিকল্পিত কৃষি উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চাঁদপুরের মাটিতে আঙুর চাষের এই সফল উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে কৃষি খাতেও তৈরি করা সম্ভব নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।

