
জেবিসিসিআই সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বলেন, ইপিএ শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং আগামী ৫০ বছরের জন্য বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি কৌশলগত কাঠামো। তবে চুক্তির আওতায় কোন কোন পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তুলে ধরা প্রয়োজন।
জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নে রোডম্যাপ প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ রোববার সচিবালয়ে তার সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা, আর্থিক বিধিনিষেধ শিথিল করা, এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান জটিলতা দূরের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি একটি দ্বিপক্ষীয় চেম্বার, যার পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশী ও জাপানি নাগরিকদের সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড), রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিচালিত যোগ্য সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সার্টিফিকেট অব অরিজিন প্রদানের অনুমোদন জেবিসিসিআইকে দেয়া হলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে।
জেবিসিসিআই সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বলেন, ইপিএ শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং আগামী ৫০ বছরের জন্য বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি কৌশলগত কাঠামো। তবে চুক্তির আওতায় কোন কোন পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। এ সম্পর্ক আরও গভীর করতে ইপিএ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও আলোচনা কার্যক্রমে জেবিসিসিআইয়ের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
জেবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা গেলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
জেবিসিসিআই পরিচালক মানাবু সুগাওয়ারা দ্রুত ইপিএ অনুসমর্থন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলেও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোআকি ওউরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভিসা সহায়তা ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়া উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জাপানি কোম্পানিগুলো এখনও বিনিয়োগ ভিসা ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন পেতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
জেবিসিসিআই পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ইপিএর আওতায় তৈরি পোশাক খাতের জন্য প্রযোজ্য সুবিধাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের আরএমজি খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জেবিসিসিআইয়ের উত্থাপিত বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া সংশোধনের বিষয়টি বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, লাইসেন্স ও বিভিন্ন অনুমোদন প্রদানের সময় কমানো এবং বিডার মাধ্যমে আরও কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সার্টিফিকেট অব অরিজিন প্রদানের অনুমোদন বিষয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। তবে এ ধরনের দায়িত্ব খাতভিত্তিক সংগঠন ও চেম্বারগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক কাঠামোর উন্নয়ন, নীতিগত পূর্বানুমতি, আরজেএসসির আধুনিকায়ন, আইআরসি ও ইআরসি ডিজিটালাইজেশন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় অধিক নমনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করছে।
বৈঠক শেষে জেবিসিসিআই বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আমার বার্তা/এমই

