
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অবসরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত কাল রোববার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ট্রে ইঙ্গিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। ইঙ্গিস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কোনো পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রয়েছে কি-না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার সমস্যা নেই। (বৈঠকের জন্য) সম্ভবত আমি ফ্রি থাকব; কিন্তু ইরানকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আমার সামনে ৩টি বিকল্প আছে— ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে নির্মূল করে দেওয়া অথবা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা। তাদের অবশ্যই এই তিন বিকল্প সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে এবং সঠিক আচরণ করতে হবে।”
আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অধিবেশন চলবে। অধিবেশনে যোগ দিতে ইতোমধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচিসহ কয়েক জন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে ভিসা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দু’দশক ধরে টানাপোড়েনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর দু’বার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দুই পক্ষ; এবং দু’বারই তা ব্যর্থ হয়েছে।
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েন শুরু হলেও বর্তমানে আর এটি মুখ্য নয়, বর্তমানে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে রেখেছে তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ রোববার এএফপিকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের কিছু শর্ত রয়েছে এবং শর্তগুলো তারা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।
এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রবিবার জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার যে চেষ্টা তেহরান চালিয়েছিল, তা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নিজেদের শর্তাবলী জানিয়ে দিয়েছে।
শনিবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, গেল দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র : আরব নিউজ

