
পররাষ্ট্র, আফ্রিকান সহযোগিতা ও প্রবাসী মরক্কো বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নাসের বোরিতা মঙ্গলবার বলেছেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যু মরক্কোর পররাষ্ট্রনীতির একটি "অবিচল অগ্রাধিকার" হিসেবে বহাল রয়েছে; এটি এই দাবির ন্যায়সংগততার প্রতি গভীর বিশ্বাস এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এর কেন্দ্রীয় ভূমিকারই প্রতিফলন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) মরক্কোর পক্ষে দেওয়া এক ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরিতা বলেন, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের নেতৃত্বে মরক্কো বিশ্বাস করে যে, একটি ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন নির্ভর করছে ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব আল-কুদসকে (পূর্ব জেরুজালেম) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর—যে রাষ্ট্রটি ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে সহাবস্থান করবে।
ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে, মরক্কো গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার এবং কোনো বাধা বা বিধিনিষেধ ছাড়াই পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তার জরুরি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছে বলে জানান বোরিতা, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মরক্কোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরিতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারে সমর্থনের পাশাপাশি বিশেষ করে আর্থিক, কারিগরি, প্রাতিষ্ঠানিক, মানবিক ও প্রশিক্ষণ খাতে তাদের সহায়তা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (UNRWA)-র পালন করা কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পক্ষে মরক্কোর ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির প্রতি অবিচল থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে গাজা উপত্যকার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে যোগদানের এবং শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।
বোরিতা জানান, এই অবদানের আওতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যেমন—ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ, একটি ফিল্ড মিলিটারি হাসপাতাল স্থাপন এবং চরমপন্থা মোকাবিলার কর্মসূচি গ্রহণে প্রস্তুতি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরিতা পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির গুরুত্বের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনি মর্যাদাকে প্রভাবিত করে এমন আইন গ্রহণ এবং বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভূখণ্ড দখলের (অ্যানেক্সেশন) বৈধতা প্রদান, পাশাপাশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের পদ্ধতিগত হামলার বৃদ্ধি।
তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন যে, এগুলোর লক্ষ্য হলো জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা এবং একই সাথে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
এই প্রেক্ষাপটে, বোরিতা ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপ এবং আল-আকসা মসজিদকে লক্ষ্য করে বারবার লঙ্ঘনের ঘটনায় মরক্কোর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এগুলোকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন, যা চরমপন্থী ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যকে উসকে দেয় এবং উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ও প্রজ্ঞা ও সংযমের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরিতা উল্লেখ করেন যে, আল-কুদস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মহামান্য রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ পবিত্র নগরীটির ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সত্তা রক্ষা, এর আইনি মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আরও জানান যে, এই প্রচেষ্টার আওতায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ‘বাইত মাল আল-কুদস আল-শরিফ এজেন্সি’—যা আল-কুদস কমিটির নির্বাহী শাখা—মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে।

