ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

আমার বার্তা অনলাইন:
২১ মে ২০২৬, ১৪:৫০

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার আপিল করার বিষয়টি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

এর আগে গত ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশে এই সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী জুডিসিয়াল সার্ভিসের ১৫ সদস্যকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। পরে তা গত ২০ এপ্রিল শুনানির জন্য ওঠে। তবে ওইদিন তা শুনানি হয়নি। রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

২০ এপ্রিল শিশির মনির আদালত থেকে বের হয়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে তারা দ্রুতই হাইকোর্টের আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত বলেছেন তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করুক। আর আদালতের প্রত্যাশা সরকার যেন ইন দ্য মিন টাইম তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে সচিবালয়ের যে সেটাপ আছে সেগুলোকে সরিয়ে না ফেলে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।

সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হবার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে।

বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী।

আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেওয়া হয়। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধনের সময় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সবার কাছে আমার আহ্বান রইল—আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা—এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’

আমার বার্তা/এমই

চায়না রাইফেল দিয়ে গুলির নির্দেশ দেননি হাবিবুর রহমান: দাবি আইনজীবীর

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল দিয়ে গুলি করার জন্য ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিবেচনায় আসবে না ধর্ষণ মামলা

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ধর্ষণ মামলা বিবেচনায়ই আসবে না। এ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা

আপিল বিভাগেও আবুল বারকাতের জামিন, জমা দিতে হবে পাসপোর্ট

২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতের জামিন বহাল রেখেছেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মালয়েশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে: তথ্যমন্ত্রী

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

টিকাদানের ঘাটতি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে

সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে

সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের রাজনৈতিক-ব্যক্তিগত তথ্য নিচ্ছে পুলিশ

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ৪২টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

দেশের প্রয়োজনে মাঠে ছিল, এখন ব্যারাকে ফিরছেন সেনাসদস্যরা: সেনাপ্রধান

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই: সিইসি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট, গরমে ভোগান্তি

চায়না রাইফেল দিয়ে গুলির নির্দেশ দেননি হাবিবুর রহমান: দাবি আইনজীবীর

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিবেচনায় আসবে না ধর্ষণ মামলা

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ৫ সিদ্ধান্ত

সৃজনশীলতা ও মানসিক সুস্থতায় জেসিআই ঢাকা ইয়াং এর ব্যাতিক্রম আয়োজন 

পেসারদের মধ্যে 'হেলদি কম্পিটিশন' এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে

চাপ কমাতে অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের নির্দেশ

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা বহু বছর ধরে চলতে থাকা নৈতিক অবক্ষয়