
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা ও ছুটির দিন। কিন্তু সব মানুষ একসাথে এই আনন্দ ভোগ করতে পারে না। সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী পেশার মানুষরা নিজেদের ঈদ উদযাপনের আনন্দ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন দিয়ে সাধারণ মানুষের আনন্দ নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিভিন্ন পেশার মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব পেশার লোকদের জন্য ঈদ মানেই দায়িত্ব পালন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন বলেন, “সাধারণ মানুষ ছুটিতে থাকলেও সংবাদ কখনো ছুটি পায় না। দেশের কোথাও কী ঘটছে, তা জানার জন্য মানুষ আমাদের ওপর নির্ভর করে। এজন্য আমাদের ঈদও সম্পূর্ণ ছুটি হয়ে ওঠে না।”
পুলিশের দায়িত্বেও ঈদের আনন্দ আংশিক
ঢাকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিনও আমাদের কাজ বন্ধ থাকে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় ছুটি বাতিল করতে হয়। আমাদের আনন্দ আসে ধাপে ধাপে। কেউ আগে ছুটি পায়, কেউ পরে। তবে দেশের মানুষ শান্তিতে ঈদ পালন করলে আমরা সেটাকে নিজের ঈদ মনে করি।”
ডাক্তারদের ঈদও ব্যস্ততায় ভরা
ডা. আবদুর রহমান জানান, “ঈদ আমাদের জন্য আনন্দ এবং ব্যস্ততার মিশ্রণ। আমরা চাই পরিবারকে সময় দিতে, কিন্তু হাসপাতালে ও জরুরি সেবা চালু রাখতে হয়। রোগীর সুস্থতা আমাদের জন্য ঈদকে বিশেষ করে।”
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাসুম ঝিগাতলা বলেন, “একদিন না এলে শহরে ভাত জুটবে না। ঈদের ছুটিতেও আমরা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করছি, যাতে অন্যরা পরিষ্কার শহরে ঈদ উদযাপন করতে পারে।”
সাধারণ মানুষের কাছে এই ত্যাগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। এক ব্যক্তি বলেন, “যদি ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন না করে, তবে আমরা শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারব না। তাদের অবদানকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।”
কিছু মানুষ আবার এটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন। শাকিল আহমেদ বলেন, “জরুরি সেবার কোনো ছুটি হয় না। ঈদে একদল ছুটিতে গেলে অন্যরা দায়িত্ব পালন করে। যারা ছুটিতে যায় না, তারা অতিরিক্ত ভাতা পান। এরপর সবাই ছুটি নিতে পারেন।”
এভাবে দেশের শান্তি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার পেছনে দায়িত্বশীলদের ত্যাগ থাকায় সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে। তাঁদের এ অবদান উৎসবের আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করে।

