
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বন্দি হওয়ার আগে শেখ মুজিবুর রহমান তার অনুসারীদের ‘সাবধানে থাকার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিকে ‘যুদ্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
২৫ মার্চের স্মৃতিচারণ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সে রাতে আমি পুরান ঢাকার একটি বাড়িতে বড় বড় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছিলাম। তারা ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের নম্বরে ফোন কানেক্ট করতে বললেন।
ফোন পাওয়ার পর একজন নেতা কথা বলে ধপাস করে সোফায় বসে পড়লেন। তিনি বললেন, মুজিব বলেছেন সাবধানে থাকিস। তিনি আত্মরক্ষার কথা বললেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ঘোষণা ছিল ভিন্ন। তিনি সারা জাতিকে পাকবাহিনীকে বিতাড়িত করতে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এ সময় স্পিকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনি তখন যশোর ক্যান্টনমেন্টে থেকে জেড ফোর্সে জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। সেই যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ৪ জুলাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা জরুরি সভা করে ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিই। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আমাদের নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী থেকে শুরু করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও রাস্তায় নেমে গণভবন পর্যন্ত গিয়েছিল।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে রমনার বটমূলে আমি একমাত্র সাক্ষী হিসেবে আজও বেঁচে আছি। শহীদ জিয়া ১৮ মিনিটের মধ্যে বিএনপির ঘোষণা করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে উচ্চারণ করলে হবে না, তাদের আদর্শের পথে চলেই তা প্রমাণ করতে হবে।’
নিজের মুক্তিযোদ্ধা সনদ না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যুদ্ধের পর এক মেয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে এলো, যার বাবা ছিল একজন কোলাবোরেটর (রাজাকার)। সেই দৃশ্য দেখে আমি ঘৃণাভরে নিজের সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। আমি মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করি না।
আমার বার্তা/এমই

