
অর্থমন্ত্রী দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতার কথা উল্লেখ করে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশেষ করে চীনের কথা বলছি।
তার চীন সফর সব দিক থেকেই ছিল একটি উচ্চপর্যায়ের সফর। সেখানে দেশটির নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, যা আমরা টেলিভিশনে দেখেছি, তা সত্যিই ছিল অত্যন্ত চমৎকার।
এজন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে, এই সংসদের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাকে আমরা বীরের সম্মানেই স্বাগত জানাই। এ দেশের জনগণের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে, তাদের মধ্যে আমি একজন।
তিনি বলেন, এই সংসদ অনন্য একটি সংসদ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এখানে এমন কেউ নেই, যিনি অত্যাচারিত বা নির্যাতিত হননি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দেওয়া হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, হাজতে নেওয়া হয়েছে, কারাবন্দি করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, আয়নাঘরে রাখা হয়েছে, এমনকি ফাঁসির আসামিও করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি পেরিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের জনগণের কাছে এই সংসদের প্রত্যেক সদস্যই একজন হিরো। চারদিকে ভালো করে তাকালে বলা যায়, এই সংসদ এখন যেন ঈগলদের এক সমাবেশ। আর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই দক্ষিণ এশিয়ার সেন্টার অব গ্র্যাভিটি।
সরকারের বয়স প্রায় চার মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চার মাসে, যাকে বলে নখের কালি শুকায়নি, তার আগেই সরকার কাবিখা, কাবিটা, টিআর, ভিজিএফের বরাদ্দ দিয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পাদ্রি ও ভান্তেদের জন্য ভাতা দিয়েছে। বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, শাড়ি ও টিউবওয়েল দিয়েছে, যা গত ৫০-৫৫ বছরে কোনো সরকার দেয়নি কিংবা দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের ব্রিলিয়ান্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে, যিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড় করিয়েছেন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট। আপনাকে ধন্যবাদ।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত চলছিল। এমন বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সময়োপযোগী, যুগান্তকারী ও দুঃসাহসিক বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীকে স্যালুট জানাই।’
আমার বার্তা/এমই

