
বর্তমান বিশ্ব ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শুধু অর্থনীতি, কর্মসংস্থান কিংবা শ্রমবাজারের বিষয় নয়; এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) আয়োজিত ‘Migration Governance as a National Security Instrument in Bangladesh’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ডিন, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা আর কেবল রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড ও ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের নিরাপদ চলাচল, বৈধ কর্মসংস্থান, সীমান্ত অতিক্রমের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশগামী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণা, মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটকালীন সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে। একটি সুসংহত, মানবিক ও নিরাপত্তাসচেতন অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে।
তিনি অভিবাসনের অর্থনৈতিক, মানবিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত দিকগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী নীতিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী গবেষণা, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মূল বক্তব্যের পর অনুষ্ঠিত মতবিনিময় পর্বে বিইউপির শিক্ষার্থীরা অভিবাসন নীতি, মানবপাচার, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিইউপির শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা, নীতিগত আলোচনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
আমার বার্তা/এমই

