
জনস্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক, ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. মো. খায়রুল ইসলাম আর নেই। আজ (শুক্রবার) ভোরে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল (সাবেক ইউনাইটেড) হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শুক্রবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও ওয়াশ খাতের অগ্রযাত্রায় ডা. খায়রুলের অবদান ছিল অসামান্য। প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি, নেতৃত্ব, সদালাপ এবং দেশের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন এ খাতের এক অনন্য পথপ্রদর্শক ও প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। দেশের পানি ও স্যানিটেশন খাতের উন্নয়নে তিনি কয়েক দশক ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। চলতি মাসেই ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টরের পদ থেকে তার অবসর নেওয়ার কথা ছিল।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ডা. মো. খায়রুল ইসলাম পরবর্তী সময়ে নিপসম ও বোস্টন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সামাজিক নানা বিষয়ে তিনি নিয়মিত গবেষণা ও লেখালেখি করেছেন। দেশে ও বিদেশে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ’ বইয়ের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ও প্রদায়ক ছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের সঙ্গে পাঁচ বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তিনি যৌথভাবে রচনা করেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস’, যা ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়।
ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘ডা. খায়রুলের প্রয়াণ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও ওয়াশখাতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সবার কাছে তিনি শুধু একজন সহকর্মী বা নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন মেন্টর ও পথপ্রদর্শক। তার জ্ঞান, বিনয়, মানবিকতা ও নেতৃত্ব থেকে অসংখ্য মানুষ শিখেছেন, অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং নিজেদের পথ খুঁজে পেয়েছেন।’
প্রয়াত ডা. মো. খায়রুল ইসলামের একমাত্র পুত্র অর্ক অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসছেন। আগামীকাল (শনিবার) বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

