
ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, কিশোর অপরাধ দমন এবং গণসহিংসতা (মব) প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং তথ্যভিত্তিক পুলিশিং জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
সভায় ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের প্রবণতা, মাদকবিরোধী অভিযান, জননিরাপত্তা এবং পুলিশের চলমান কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং গণসহিংসতা (মব) ঠেকাতে পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে জনগণের ভূমিকা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন পুলিশ সুপার। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাদের আস্থা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
এ সময় তথ্যভিত্তিক পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির সদস্যরা পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, গণসহিংসতা রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সভা শেষ হয়।

