ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সেদিন সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলা’ নিয়ে ঠিক কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া

আমার বার্তা অনলাইন:
০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৯
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল বা ‘ছুড়ে ফেলা’ নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুরোনো একটি বক্তব্য। বিশেষ করে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের দাবি—খালেদা জিয়াও নাকি এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। বস্তুত তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও ভাষ্য নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা।

সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দল ও তরুণ নেতাদের পক্ষ থেকে ‘বাহাত্তরের সংবিধান’ বাতিল বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।

পার্থ বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলব কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় যে, এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? সংবিধান নিয়ে এত গাত্রদাহ কেন?’

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ জড়িয়ে আছে। লাখো মা বোনের সম্ভ্রম জড়িয়ে আছে। এই সংবিধানকে সামনে রেখেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’

এর আগে গত ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘জেন-জি’রা আর বাহাত্তরের সংবিধান চায় না।’

পরদিন জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘যে সংবিধান খালেদা জিয়া ছুড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, সেই বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি সরকারি দলের কেন এত প্রেম জাগ্রত হলো, তা জনগণ জানতে চায়।’

এরপর মঙ্গলবার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির আরও অনেক এমপি একই সুরে কথা বলেন। তারা বিএনপিকেও প্রশ্ন করেন—যে সংবিধান খালেদা জিয়া নাকি বাতিল করতে চেয়েছিলেন, সেটির প্রতি এখন কেন সমর্থন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কিছুক্ষণ আগে মাননীয় সংসদ সদস্য পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছেলেন- উনি যখন বললেন সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চান তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে অ্যালাইনমেন্ট করলেন; তখন সরকারি দলের মন্ত্রীরা টেবিল চাপড়ে সেটাকে সমর্থন জানালেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন; উনি বলেছিলেন- যখন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে; যেদিন এ পার্লমেন্ট জনতার সরকারের কাছ যাবে সেদিন এ সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। ট্রেজারি বেঞ্চে যে মন্ত্রীরা আছেন তারা দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এ সংবিধান ছুড়ে ফেলার সঙ্গে স্বাধীনতা ও যুদ্ধারাধীর অ্যালাইনমেন্ট করার যে হাততালি যারা দিয়েছেন- সেটার মধ্য দিয়ে তারা বেগম জিয়াকে অপমান করেছেন কিনা তারা সেটা ভেবে দেখবেন।

আসলে কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে বিএনপি এই সংশোধনের বিরোধিতা করে। ওই বছরের ১৩ জুলাই এক গণঅনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন সংশোধনী এনেছে। আমরা বলতে চাই, এসব সংশোধনী আওয়ামী ইশতেহার। এটা জনগন মানে না। আগামী সরকার পরিবর্তনের পর এসব সংবিধান (সংশোধনী) ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে তিনি পুরো সংবিধান নয় বরং নির্দিষ্ট কিছু সংশোধনী বাতিলের কথাই উল্লেখ করেছিলেন।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ বিতর্ক সৃষ্টি করতে থাকলে সে সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে বা গ্রহণযোগ্য নয়— খালেদা জিয়ার এ অভিপ্রায়ের অর্থ হচ্ছে তার দল ক্ষমতায় গেলে পঞ্চদশ সংশোধনী পরিবর্তন করবে।’

তথ্যানুযায়ী, খালেদা জিয়া সরাসরি সংবিধান বাতিলের কথা বলেননি বরং তিনি নির্দিষ্ট সংশোধনীগুলো বাতিলের কথা বলেছেন। ফলে তার বক্তব্যকে পুরো সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলার’ আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা কতটা সঠিক—তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

আমার বার্তা/এমই

অভিভাবকদের গান-বাজনায় বাধ্য করা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন: হেফাজত

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর উদ্যোগকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শামিল

সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে

শিশুদের হাম-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

দেশে শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন

আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না: পার্থ

বর্তমান সংসদকে একটি ‘ইউনিক সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাফের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তি মাইলফলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই: ২০টি বাতিলের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

অভিভাবকদের গান-বাজনায় বাধ্য করা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন: হেফাজত

ঢাকায় সাবেক আলজেরীয় রাষ্ট্রপতি লিয়ামিন জেরুয়ালের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

বিসিবি থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক পরিচালক ইয়াসির ফয়সাল

সম্মিলিতভাবে অন্ধত্ব নিরসনের অঙ্গীকার করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কয়লাসহ আটক ৩

এসএসসি পরীক্ষার জন্য ঢাকা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

সরকারি দফতরে কর্মরতদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি

আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি এখন গলার কাঁটা: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

সেদিন সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলা’ নিয়ে ঠিক কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া

দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৬, উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট

সাইয়েদ আবদুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন: রসিক প্রশাসক

হরমুজ প্রণালি সচল করতে ৩৫ দেশের জোট গড়ছে যুক্তরাজ্য

চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ

প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী