
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ডিজে শিল্পী ডিজে নাইরা-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার ফেসবুক পেজের কিছু ভিডিও বারবার রিপোর্ট করে সরিয়ে ফেলার ঘটনা সামনে এসেছে।
একই সঙ্গে পেজ হ্যাকের চেষ্টা, ভুয়া আইডি খোলা এবং অর্থ প্রতারণার অভিযোগও করেছেন এই শিল্পী।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে কিছুদিন আগে একটি ফেসবুক সাক্ষাৎকারে ডিজে নাইরা চট্টগ্রামের তরুণদের নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের অনেক ছেলে অল্প বয়সে বিদেশে পাড়ি জমান, ফলে অনেকে দেশে পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারেন না। এই বাস্তবতার কারণ দেখিয়ে তিনি জানান, তিনি চট্টগ্রামের ছেলেদের বিয়ে করতে আগ্রহী নন।
তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কিছু ব্যবহারকারী বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে হুমকিসূচক বার্তা দিয়ে জানান যে তিনি তার পেজে সমস্যা সৃষ্টি করবেন এবং “লাল বাতি জ্বালাবেন” বলে ইঙ্গিত দেন।
ভিডিও রিপোর্ট ও পেজে হামলার অভিযোগ ডিজে নাইরার দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তার ফেসবুক পেজের ভিডিওগুলো ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট করা হচ্ছে, যার ফলে কিছু কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার পেজ হ্যাক করারও চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, তার ব্যবহৃত ছবি দিয়ে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। এসব ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে।
আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত হয়রানি হিসেবে দেখছেন ডিজে নাইরা। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
সাইবার হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ এই ঘটনা আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, ভুয়া আইডি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। জনসম্মুখে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের পর ব্যক্তিগত আক্রমণ, কনটেন্ট রিপোর্টিং ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মতো অভিযোগ নতুন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
বর্তমানে ডিজে নাইরার পেজ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। আইনগত পদক্ষেপের অগ্রগতি ও তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার

