
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অপর ভারতীয় রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো আসামেও এগিয়ে আছে বিজেপি। এ পর্যন্ত গণনায় এমন ফলাফলই পাওয়া গেছে।
আসামে মোট জেলার সংখ্যা ৩৫টি এবং এসব জেলায় বিধানসভার আসন মোট ১২৬টি। অর্থাৎ, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটির বিধানসভায় মোট আসনসংখ্যা ১২৬টি। এর রাজ্যের জনসংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখের অধিক এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখের কিছু বেশি।
গত ৯ এপ্রিল আসামে বিধানসভার ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সময়ে সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায়) আসামে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।
আসাম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ৩টি রাজনৈতিক জোটের মধ্যে। এই জোটগুলো হলো বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া এবং আম আদমি পার্টি-তৃণমূল ও সমমনা দলগুলোর জোট এআইইউডিএফ। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও লড়েছেন অনেকে।
নির্বাচন কমিশনের গণনা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৯৬টিতে এগিয়ে আছে বিজেপি এবং এনডিএ জোটের প্রার্থীরা, ২৬টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস এবং তার নেৃতত্বাধীন ইনডিয়া জোট এবং দু’টি আসনে এগিয়ে আছে এআইইউডিএফ। এর বাইরে একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে আছেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭২২ জন। তাদের মধ্যে ২৫৮ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত আসাম এক সময়ে কংগ্রেসের ঘাঁটি রাজ্য ছিলো। বর্তমানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এক সময়ে আসামের ‘হেভিওয়েট’ কংগ্রেস নেতা ছিলেন। কংগ্রেসের শাসনামলে একাধিক মেয়াদে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদেও ছিলেন তিনি।
আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কংগ্রেস এবং রাজ্যসরকারের সব পদ থেকে অব্যাহতি নেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা, তার পরের বছর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।
তারপর ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারগঠন করে বিজেপি, সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এবারে নির্বাচনে জয়ী হলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আরও এক দফা মেয়াদ বাড়বে তার। - সূত্র : এনডিটিভি

