
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যে হত্যাযজ্ঞ চালায়, এর তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকউটর আমিনুল ইসলাম। তদন্তে শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এই কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে শাপলা চত্বরের অভিযানে ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের যেসব ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আমরা তথ্য পাচ্ছি। এমনকি কেউ কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলেও প্রমাণ মিলছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই তদন্তের আওতায় আনা হবে।
এক যুগের বেশি সময় আগে রাজধানীতে সংঘটিত আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্লগাররা ধর্মীয় অবমাননা ও হজরত মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে কটূক্তি এবং আপত্তিকর লেখালেখি করার প্রতিবাদে হেফাজত ইসলাম ১৩ দফা দাবি সরকারের কাছে দেয়। সরকার দাবি না মানায় ২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে রাস্তায় অবস্থান নেয় তারা। ওইদিন রাত ১১টা থেকে পরের দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে শেখ হাসিনার মদদে আসামিরা যোগসাজশে নিরীহ মাদরাসাছাত্র ও পথচারীদের ওপর গণহত্যা চালায়। তাদের হত্যা করে লাশগুলো সিটি করপোরেশনের গাড়িতে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে গুম করে। এসময় বহু মাদরাসাছাত্র হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা ও জিডি করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা নেয়নি।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
শাপলা চত্বরের এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
আমার বার্তা/এমই

