ই-পেপার মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

আমার বার্তা অনলাইন:
০৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৯

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চমৎকার ভারসাম্যের উদাহরণ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। মানবীয় কোনো দুর্বলতা ছাড়াই তিনি ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।

মহানবীর (সা.) সীরাত বা জীবনী পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, মহানবীর জীবন-ভারসাম্য শুধু কোনো তাত্ত্বিক কথা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাস্তব জীবনপদ্ধতি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনীতে এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে। বিশৃঙ্খল এই পৃথিবীতে কীভাবে নিজের জীবনে স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার জীবন থেকে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও জাগতিক দায়িত্বের সমন্বয়

মহানবী (সা.) সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ইবাদতের পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন ধর্ম মানুষের জন্য সহজ, কঠিন কিছু নয়। একবার তিনজন সাহাবী সারাজীবন রোজা রাখা, সারা রাত জেগে নামাজ পড়া এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিলে নবীজী (সা.) তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করে দেন।

বুখারী শরীফের একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রোজা রাখি আবার তা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাাই, আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার এই সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

২. মানুষের অধিকার রক্ষা

জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য যার যা প্রাপ্য বা অধিকার, তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। হজরত সালমান ফারসি (রা.) যখন দেখলেন যে হজরত আবু দারদা (রা.) অতিরিক্ত ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীর ও পরিবারের প্রতি অবহেলা করছেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.)-এর এই বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করে বলেন, তোমার শরীরের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমার পরিবার এবং অতিথিদেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।

৩. দয়া ও কঠোরতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার মূর্ত প্রতীক, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। ব্যক্তিগত কোনো অপমানের জন্য তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু যখনই কোনো দুর্বল মানুষের অধিকার খর্ব করা হতো কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা হতো, তখন তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন।

তার জীবন থেকে শেখা যায় যে, দয়া করার অর্থ সত্যের সাথে আপস করা নয়, আবার দৃঢ় থাকার অর্থ নিষ্ঠুরতা নয়।

৪. কোমলতার সাথে ভুল সংশোধন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার মূল পদ্ধতিই ছিল মানুষকে তিরস্কার না করে সংশোধন করে দেওয়া। একবার এক বেদুইন মসজিদে নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করে দিলে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নবীজী (সা.) তাদের শান্ত করেন। তিনি অপরাধীর আত্মসম্মান বজায় রেখে তাকে সঠিক নিয়মটি বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও শাস্তি নয় বরং স্নেহের সাথে বোঝানোই হলো নববী আদর্শ।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শোক প্রকাশ

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে দমন করতে বলে না, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। নিজের শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রিয়জনের বিদায়ে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে পারে এবং হৃদয় ব্যথিত হতে পারে, তবে তা যেন ঈমানের গণ্ডি পেরিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ বা হতাশার রূপ না নেয়।

৬. পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা

পারিবারিক জীবনে মহানবী (সা.) ঘরের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ছিলেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন এবং সাংসারিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেন। গভীর ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের সবার মাঝে শতভাগ সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতেন তিনি।

৭. কৌশলগত নেতৃত্বে পরিকল্পনা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ, কিন্তু তিনি কখনো হঠকারিতা দেখাননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী বেছে নিয়েছিলেন, দক্ষ পথপ্রদর্শক ভাড়া করেছিলেন এবং শত্রুকে ফাঁকি দিতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেছিলেন। নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিখুঁত পরিকল্পনা সম্পন্ন করার পরই তিনি গুহার ভেতর সাহাবীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

অর্থাৎ, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের মেলবন্ধনই হলো প্রকৃত ভারসাম্য।

শেষ কথা

আজকের আধুনিক যুগে যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবনে শান্তি ও স্থিতি খুঁজছে, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনই একমাত্র বাস্তবমুখী পথপ্রদর্শক।

সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একজন খাঁটি বিশ্বাসী হওয়া যায়, অহংকারী না হয়েও কীভাবে একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া যায় এবং অন্যের দ্বারা প্রতারিত না হয়েও কীভাবে দয়ালু হওয়া যায়—তার অনন্য এক রূপরেখা পাওয়া যায় মহানবীর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে।

আমার বার্তা /জেএইচ

হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ২১ হাজার ৩৪৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী

পবিত্র হজ পালন শেষে মোট ৫২টি ফিরতি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন

এ বছর সৌদিতে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবে আরও চারজন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে

পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ বাংলাদেশি হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে মোট ৬

ঈদের নামাজের নিয়ত-নিয়ম, দোয়া ও খুতবা

ঈদুল আজহা মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ জোহর নামাজের সময় শুরু হওয়ার
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিটিবি ও ৫টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলো সরকার

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘হালাল অর্থনীতি’

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে গুজব ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়

দুদকে শেখ তুহিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগ

বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, ১০ মাসে ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছাত্রদল নেতা সোহাগ ভূঁইয়া

পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার, বেশি ভারতের সঙ্গে

নির্বাচনের পরের দিনই পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক

১ কোটি ৭ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা-ব্যাগ দেবে সরকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে তুরস্কের উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধির বৈঠক

পোশাক খাতের মতো সুবিধা পেতে যাচ্ছে চামড়া শিল্প: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণে স্পেনের সমর্থন চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে প্রশাসকের ফ্রান্স সফর নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

লেবাননে নতুন আক্রমণ না হলে ইসরায়েলে হামলা চালাবে না ইরান

মে মাসের বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর: সংসদে সেলিম ভুঁইয়া

ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প

দেশে বছরে ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলা হচ্ছে ৩৫ লাখ টন খাদ্য: সংসদে খাদ্যমন্ত্রী

বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ থাকতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

আমিনবাজার ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত