
রাজধানীতে বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসীর প্রাণের সংগঠন ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা’-এর কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন ২০২৬-২০২৭ কে কেন্দ্র করে এখন জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ রোজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। এতে ‘কয়েস সামি-আজিজ-জিয়া মুন্না-রিপন পরিষদ’ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, পরিবেশ ও নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞ, সাবেক আমলা এবং অভিজ্ঞ সংগঠক ডক্টর মো: জিয়াউল ইসলাম মুন্না।
দীর্ঘ তিন যুগ ধরে সংগঠনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ড. মুন্না ইতিপূর্বে রেকর্ড ৫ বার বিপুল ভোটে ‘যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পার্সোনাল উইংয়ের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক মেম্বার (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা), বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট মেম্বার এবং বিসিএস ভাইভা বোর্ডের এক্সপার্ট হিসেবে তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেও আমার বার্তার মুখোমুখি হয়ে তিনি ব্যক্ত করেছেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঘিরে তাঁর নানা স্বপ্নের কথা, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন ভাবনা এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা। ড. মুন্নার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
আমার বার্তা : জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকার আসন্ন নির্বাচনে আপনি ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদে নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার পর এবার সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ার পেছনের অনুপ্রেরণা কী?
ডক্টর জিয়াউল ইসলাম মুন্না: ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম। আমি প্রায় পাঁচবার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে জালালাবাদবাসীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। খান বাহাদুর এস এম মাহমুদ, গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, ই এ চৌধুরী ও শাহানা কবিরের মতো গুণীজনদের শ্রমে-ঘামে গড়ে ওঠা এই অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠনে আমি ছাত্রজীবন থেকেই যুক্ত। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনের সঙ্গে এই নিবিড় সম্পর্ক থেকেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছি—মূলত জালালাবাদবাসীর সেবাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে।
আমার বার্তা : আপনাদের নির্বাচনী কমিটমেন্ট এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
ডক্টর জিয়াউল ইসলাম মুন্না: আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: সিলেটের শিক্ষার হার বাড়াতে এবং তরুণদের বিসিএস, ব্যাংকিং
আমার বার্তা: ব্যস্ততার মাঝে আপনার অবসর সময় কীভাবে কাটে?
ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না: অবসরে আমি বই পড়তে খুব ভালোবাসি—বিশেষ করে গবেষণামূলক বই। পাশাপাশি ভালো গান শুনি, দেশ-বিদেশের সংবাদের প্রতি নজর রাখি এবং সুযোগ পেলেই ভ্রমণ করতে পছন্দ করি।
আমার বার্তা: সংগঠনের সার্বিক অবকাঠামো ও তহবিল বৃদ্ধির বিষয়ে যদি কিছু বলতেন।
ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না: কারওয়ান বাজারে আমাদের ৫ কাঠা জমির ওপর ১৫ তলা বিশিষ্ট সুউচ্চ নিজস্ব ভবন রয়েছে। যেখান থেকে প্রাপ্ত ভাড়া এবং এফডিআর (FDR)-এর লভ্যাংশ দিয়েই প্রধানত কল্যাণমূলক কাজগুলো পরিচালিত হয়। এছাড়া আমাদের আলাদা ভবন ট্রাস্ট, শিক্ষা ট্রাস্ট এবং যাকাত ফান্ড রয়েছে। এগুলোর দায়িত্বে দেশের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ (সাবেক সচিব, বিচারপতি ও গভর্নর) রয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা সিলেট অঞ্চলের বিত্তবান ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিয়ে দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, রিকশা বা অনুদান বিতরণ করি।
আমার বার্তা প্রশ্ন: জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণ ও নতুন কোনো উদ্যোগের ভাবনা আছে কি?
ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না: আমাদের গঠনতন্ত্রে (বাই-ল) বলা আছে, স্বামী বা স্ত্রীর যেকোনো একজন সিলেটের হলে অন্যজনও সদস্য হতে পারবেন। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সুযোগে যুক্ত হয়েছেন। সিলেটের গর্ব ডা: জোবায়দা রহমান ও আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকেও আমরা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার বিশেষ উদ্যোগ নিব।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস আর হাসান চৌধুরী খালেদ
আমার বার্তা/এমই

