
দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোণায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, রংপুরে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন ও সুনামগঞ্জে ৫ জনসহ পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় সমোট ১১ জনের প্রাণ গেছে।
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের হাওরে দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঘাস কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে তিনি সেখানে পড়ে যান। পরে বৃষ্টি থামলে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান। আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুবায়দুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে রহমত আলী (উজ্জ্বল) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার ২ নং গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়রাউড়া গ্রামে ধান কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে মাঠে কাজ করা অবস্থায় তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-মিলন মিয়া (৩৫) ও আবু তালেব (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খামারের পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছিল। পাড়ে দাঁড়িয়ে অনেকে তা দেখছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে পুকুরে থাকা জেলে ও পাড়ের দর্শনার্থীরা দগ্ধ ও আহত হন। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন-ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০) ও রহমত উল্লা (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরের আবুল কালাম (২৫) ও দিরাইয়ের লিটন মিয়া (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এসব প্রাণহানি ঘটে। প্রতিটি উপজেলায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেটের হবিগঞ্জে বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এদিকে চলমান মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের খোলা মাঠে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। নিহত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

