ই-পেপার সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সংসদ তোষামোদের জায়গা নয়, ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয়

আমার বার্তা অনলাইন:
২৯ জুন ২০২৬, ১২:১৭

সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান-কবিতা গাওয়ার অতীত ‘ব্যাড কালচার’ বা অপসংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সংসদ কোনো তোষামোদের জায়গা নয়, এটি দায়িত্ব পালনের জায়গা। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই পবিত্র সংসদে যেন আর কোনো চরিত্র হননের কাজ না হয়, স্পিকারের প্রতি সেই আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, সবার চিন্তাধারা এক হওয়া সম্ভব নয়। সবার চিন্তা একই রকম হলে এত লোকের বক্তৃতা বা এত সময় খরচের প্রয়োজন হতো না, দুই পক্ষ থেকে একজন করে কথা বললেই চলতো। আমরা জনগণের ভালোবাসা এবং ভোটে নির্বাচিত হয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রত্যেকেই নিজের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং প্রিয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ভিত্তির উপরই পুরো বছরটি কেমন যাবে তা নির্ভরশীল এবং সব সদস্য সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

নিজের দলকে একটি ‘কষ্টে বোকা দল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন সিনিয়র নেতাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১২ নম্বর জন হিসেবে কেবল তিনিই এখন জীবিত রয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। পিলখানায় বীর সেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে জাতির সূর্য-বীর্যের জায়গায় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন। সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে 'মজলুমের পার্লামেন্ট' আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ এমন কোনো আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আঘাত করে, বরং এটি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।

বাজেটের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেয়ে এর গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বের দিকে আলোকপাত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি সংসদকে একটি যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সংসদ মূলত দুটি চাকার ওপর চলে—একটি সরকারি দল এবং অন্যটি বিরোধী দল। যেকোনো একটি চাকা অকেজো হয়ে গেলে পুরো যানবাহনটিই অচল হয়ে পড়বে। তাই এই দুটি চাকাকেই সচল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাকায় পিন বা পেরেক মেরে ফুটো করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সংসদে কুচকুচ করে কাটার পর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর যে মানসিকতা, সেই বিভাজনের যন্ত্রটি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি দলের সব অভিপ্রায় বিরোধী দল চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে না, আবার সরকার ভালো কোনো উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরে তার বিরোধিতা করবে না।

তিনি সরকারি দলকে বিরোধী পক্ষকে সম্মান করার এবং বিরোধী দলকে সরকারকে সংগত কারণে সহযোগিতা করার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানান। সংসদে নিজের নবীণত্বের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নবীণরা প্রবীণদের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখতে চায়, মন্দ কিছু নয়। অতীতে সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান, কবিতা ও স্বপ্নবিলাস করার যে সংস্কৃতি ছিল, তার তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে সংসদকে তোষামোদের জায়গায় পরিণত করা উচিত নয়। এটি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার এবং দায়িত্ব পালন করার জায়গা। ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করার এবং চরিত্র হননের যে 'ব্যাড কালচার' অতীতে ছিল, স্পিকারের মাধ্যমে তা পুরোপুরি বন্ধ করার জোর দাবি জানান তিনি।

বাজেটকে একটি জাতির টিকে থাকার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার চার্টার হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর খুব কম সময় পেয়েও একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী ২৩৪ পৃষ্ঠার এই বাজেট পেশ করেছেন, যা সত্যিই এক গুরুভার এবং কষ্টসাধ্য কাজ ছিল। মানুষের কোনো প্রয়াসই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় এবং এই বাজেটেও কিছু খুঁত ও ঘাটতি থাকা স্বাভাবিক। বিরোধী দলের কাজ মূলত একটি 'ওয়াচ ডগ' বা প্রহরী হিসেবে কাজ করা, যাতে তারা তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে দেখতে পারে বাজেটের মাধ্যমে জনকল্যাণের পরিবর্তে কোথাও জনগণের ক্ষতি হচ্ছে কিনা, কেউ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিনা কিংবা অর্থের অপচয় হচ্ছে কিনা।

সরকারি দলের কেউ কেউ এই সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন আবার কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বৈচিত্রই সংসদের সৌন্দর্য। সম্পূরক বাজেটের ওপর কাটমোশন অবলীলায় অগ্রাহ্য করার প্রচলিত রেওয়াজের সমালোচনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবার বিরোধী দল ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে আসা যৌক্তিক প্রস্তাবনাগুলো অর্থমন্ত্রী সংশোধিত আকারে গ্রহণ করবেন, যাতে দেশবাসী বোঝে এই আলোচনা কেবল সময়ের অপচয় বা কথার ফুলঝুরি ছিল না।

বাজেট বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব এনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছর হওয়ার কারণে বছরের শেষের দিকে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কাজ করা হয়। এর ফলে প্রথম ১০ মাসে যেখানে মাত্র ৪২ শতাংশ কাজ হয়, সেখানে শেষ সময়ে বাকি কাজ করতে গিয়ে অপচয় ও লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়। এই সংকট নিরসনে তিনি বাংলাদেশের অর্থবছরকে জুলাই-জুনের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার ইয়ার বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর মেয়াদে নির্ধারণ করার জোরালো প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দেশের ক্ষতি হ্রাস করবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি করবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বাজেট সংসদে প্রণীত হলেও তা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব অর্পিত থাকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও কর্মকর্তাদের ওপর, তাই তাদের মাধ্যমে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

আমার বার্তা /জেএইচ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, ‘কারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করেছে? এই সারজিসরা, এই

সংসদে ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য ও বিরোধীদলের সময় কাটার’ অভিযোগ জামায়াতের

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্য এবং নিজেদের সময় কেটে

একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাননি, সময় আছে ভেবে দেখুন: জামায়াতকে ফখরুল

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমা চায়নি এবং এখনো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে দুই দফায় বিতর্ক

বিগত ২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট আন্দোলনের কে নায়ক, কে মাস্টারমাইন্ড– এ নিয়ে সংসদে সরকারি ও
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: চিফ প্রসিকিউটর

বিরোধী দলের আসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থে‌কে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ফখরুল

শেরেবাংলা নগরে সরকারি তিন হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক-১৩

দীর্ঘদিন পর ভ্রমণ ভিসার আবেদন জমা নিচ্ছে ভারত, দেখা যায়নি ভিড়

খাদ্যপণ্য ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান

ফল প্রস্তুত শেষ হয়নি, জুনে মিলছে না প্রাথমিক বৃত্তির ফল

তাপপ্রবাহ কমার আভাস, দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত বাজেটকে জীবন বান্ধব বাজেট বললেন প্রধানমন্ত্রী

মানবপাচারকারীদের সহায়তায় অনুপ্রবেশ, দুইজনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

চীনা প্রযুক্তিপণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার আহ্বান

সংসদ তোষামোদের জায়গা নয়, ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয়

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবারও সতর্ক অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খাগড়াছড়িতে জালে আটকা পড়ল বার্মিজ অজগর, বন বিভাগে হস্তান্তর

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী

গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি নিয়েছে

কারাগারে অসুস্থ দীপু মনি, নেওয়া হয়েছে ঢামেকে

জাপান ম্যাচের আগে নেইমারকে নিয়ে আশার বাণী আনচেলত্তির

ফাইনালে যেতে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারাতে হবে ব্রাজিলের