
ব্যাংকিং ও আইন বিষয়ক ২টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সুদনিহীন ব্যাংকিং এর বিস্তার এবং দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন বলেন, "৯০ শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে স্বাধীনতার এত বছর পরও ইসলামী ব্যাংকিং ও ইসলামী অনুশাসন নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হচ্ছে এটি দুঃখজনক। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিরোধিতা এবং ইসলাম নিয়ে বিতর্কের কারণ আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। ইসলামিক স্কলারদেরকে এর সমাধান ও প্রতিকার উদ্ভাবন করতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম আন্তর্জাতিক বইমেলা মঞ্চে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ল' রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার’ আয়োজিত দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম খলিফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নদভী। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকার ও সেন্টারের উপদেষ্টা মু. ফরীদ উদ্দীন আহমদ এবং সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠানে ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ এবং ‘প্রচলিত আইনের ইসলামীকরণ: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্য সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসেন এবং ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চান। তবে ব্রিটিশ পরবর্তী ৪৭ থেকে ৭১ এর স্বাধীনতার পরও ইসলামি আইন বাস্তবায়নের প্রশ্নে এ দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষ বারবার হতাশ হয়েছেন। একইসঙ্গে সমাজে ইসলামি অনুশাসন নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে ইসলামের মানবিক ও সর্বজনীন কল্যাণমূলক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে ।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণবিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে অপশাসন, দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে সুদবিহীন অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ এবং ‘প্রচলিত আইনের ইসলামীকরণ: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ বই দুটি বাংলাদেশের স্থিতিশীল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সকলের পড়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামি ব্যাংকিং - বই সম্পর্কে লেখক ড. মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন,ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে একটা ইসলামি সিস্টেম, যে সিস্টেম পবিত্র কুরআন -সুন্নাহ মেনে পরিচালিত হয়।এ গ্রন্থে ইসলামী ব্যাংকিং এর আদ্যোপান্ত তোলে ধরা হয়েছে।
ড. রইছ উদদীন বলেন, যেহেতু আমরা মুসলমান তাই দল-মতের উর্ধে উঠে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। ইসলামের পক্ষের শক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সত্যিকারের ঈমান ও ইসলামের আদর্শ ধারণ করতে পারলে আল্লাহর ইচ্ছায় সাফল্য আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, "অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে কিশোরও যদি সমঝদার হয় এবং সজ্ঞানে হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাহলে তারও কঠিন বিচার হতে হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোনটিতে ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। ‘প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ বইটিতে প্রচলিত আইনকে কীভাবে ইসলামের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ করা যায় এর পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, "মানবজীবনের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ অর্থ। সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সমাজে সম্পদের সুষম আবর্তন বাধাগ্রস্ত করে এবং বঞ্চনা তৈরি করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুদভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ইসলামী নীতি অনুসরণ করতে হবে। ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ অর্থব্যবস্থার অন্যতম অংশ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামী নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।"
সেন্টারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যাংকার মু.ফরীদ উদ্দীন আহমাদ বলেন,ইসলামি ব্যাংকিং ও সুদভিত্তিক সম্পর্কে জানার জন্য ইসলামি ব্যাংকিং বইটি চমৎকার একটি বই।এটি পড়লে আমাদের ঞ্জানকে সমৃদ্ধ হবে।
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত সব আইন অনৈসলামিক নয়। অনেক আইন ইসলামী আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। প্রচলিত আইনের ইসলামীকরণ নিয়ে প্রকাশিত এ গ্রণ্থে ইসলামিকরণের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।
সভাপতির ভাষণে সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব নূরুল ইসলাম খলিফা বলেন,‘ইসলামী ব্যাংকিং’ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ও সমাজে বিদ্যমান নানা ভুল ধারণা দূর করার জন্য প্রকাশিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ বইটি পাঠকদের সহায়তা করবে ;সেই সাথে ‘প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ' র্শীর্ষক বইটি বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা ও ইসলামীকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে পাঠকদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সুদ ও ঋণের ভারে জনগণ পিষ্ট। সুদভিত্তিক ও বঞ্চনাপ্রবণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই সাথে ‘ দুর্নীতি ও অপরাধ থেকে সমাজ ও দেশকে রক্ষা করতে হলে সর্বক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন ও আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে।’

