
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭-এর সাইডলাইনে রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানি, কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির জে সেরহানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। জবাবে সৌদি আরবের সহকারী মন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সৌদি সরকারের কাছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানি সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি আরবের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে দুদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময় বাড়ানো এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
কাতারের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা
কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা এবং বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা, কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে এলএনজি পাওয়ার সুযোগ এবং আমদানির উৎস ও পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার বিষয়গুলো উঠে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।
বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভর সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও সরবরাহের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার বিষয়টি এ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ
সৌদি আরবভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরাতে সহযোগিতা চাওয়া
সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি ওই হামলার নিন্দা জানান এবং সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়েও অবহিত করেন তিনি। একইসঙ্গে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

